|

Advertisement
×

ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য বাড়ল পুনর্গঠনের সুযোগ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ১৭ বার পঠিত

ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য বাড়ল পুনর্গঠনের সুযোগ

ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক কার্যক্রম পুনর্গঠনে বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতিসহায়তার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নতুন আবেদন করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে ৩১ আগস্ট এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থা পুনর্গঠনে আগের জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনার আলোকে নতুন করে বেশ কিছু সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের ৭ নম্বর সার্কুলারের আওতায় নীতিসহায়তা পেতে আগ্রহী ঋণগ্রহীতারা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। ইতোমধ্যে বাছাই কমিটির মাধ্যমে নীতিসহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন করে ওই সার্কুলারের আওতায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

তবে বড় অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের আবেদন করা ঋণ হিসাবের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

একইভাবে, ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ পুনর্গঠনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় দিয়ে পুনর্গঠন করা যাবে।

অন্যদিকে, কোনো ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের মোট ঋণস্থিতি ১ হাজার কোটি টাকার কম হলে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৭ নম্বর সার্কুলারে নির্ধারিত মেয়াদই প্রযোজ্য হবে।

আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সার্কুলার বা বাছাই কমিটির মাধ্যমে নীতিসহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতাদেরও নতুন সুবিধার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে পার হয়ে যাওয়া গ্রেস পিরিয়ডের সময় সংশ্লিষ্ট নতুন গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে গণনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত মেয়াদও বাড়ানো যেতে পারে।

নতুন আবেদনের ক্ষেত্রেও ঋণের শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে পৃথক সুবিধা দেওয়া হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা অশ্রেণিকৃত ঋণ—যেমন প্রমিত, প্রাথমিক খেলাপি ও বিশেষ মানের ঋণ—নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ পুনর্গঠনের সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, ইতোমধ্যে বিরূপ শ্রেণিতে থাকা ঋণ—যেমন সন্দেহজনক, মন্দ বা ক্ষতিজনক—বিশেষ পুনঃতফসিলের সুবিধার আওতায় আসতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, এ প্রজ্ঞাপনের আওতায় পাওয়া সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত আগের সার্কুলার এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পুনর্বিন্যাস ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ থাকা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ পাওয়ায় তাদের আর্থিক চাপ সাময়িকভাবে কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:০২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com